
নিজস্ব প্রতিনিধি (নারায়ণগঞ্জ) সোনারগাঁ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় বৈদ্দ্যের বাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া সোনামহীতে অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইকোনমিক জোন আমান গ্রুপের নিজস্ব জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোকে কেন্দ্র করে বালু উত্তোলনের সময় সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মামুন বাহিনী ১।আলাল পিতা মৃত আইয়ুব আলী ২।ফারুক পিতা রিপন ৩।ফজলুল হক পিতা মৃত মতিন ৪।শাহপরান পিতা জলিল ৫।শফিকুল ৬।মানসুরুনসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে অনুমোদন নিয়ে আমান গ্রুপ তাদের জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছিল। এ সময় হঠাৎ করে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ড্রেজারে উঠে ভাঙচুর চালায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক মুক্তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ধারণের বিষয়টি টের পেয়ে হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়। তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
সাংবাদিকের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মামুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে পরিচিত।
আরও জানা যায় এই বাহিনী বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতিক পাওয়ার পড়ে বিএনপি নির্বাচন করে এখন আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি বনে গেছেন বলে জানান এলাকবাসী। তাদের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও নানা অনিয়ম করে আসছে এই বাহিনী।
তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশের ফেডারেশন অফ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবী জানান। অন্যথায় গ্রেপ্তার করা না হলে সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সোনারগাঁয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঘিরে এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপই পারে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।