
মোঃ মোক্তার হোসাইন(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের আড়ালে ভারতীয় বিস্ফোরক ও চোরাচালান পণ্যের একটি বড় চালানসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. আকরাম (৩৫) এবং হেলপার মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (২৫)।
র্যাব সূত্র জানায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোররাতে নিয়মিত টহলরত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশের কেওডালা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
চেকপোস্টে ঢাকাগামী এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে চালক ও হেলপার গাড়িটি দ্রুত চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এতে র্যাব সদস্যদের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটিকে ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক ও হেলপার কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে কাভার্ড ভ্যানটি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে ভ্যানের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিস্ফোরক ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৯৬ হাজার ৬৫০ পিস বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ও আতশবাজি। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ চকলেট, হেয়ার অয়েল, মেহেদি, কসমেটিকস, আগরবাতিসহ মোট ১৩ ধরনের ভারতীয় ভোগ্যপণ্য উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্যের বিপরীতে গ্রেপ্তারকৃতরা কোনো ধরনের বৈধ আমদানির কাগজপত্র বা অনুমোদন দেখাতে পারেননি।
র্যাব আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুইজন স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত। প্রায় ১০ থেকে ১২ জনের এই চক্রটি কুরিয়ার সার্ভিসের আড়ালে ভারত থেকে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে বিস্ফোরক ও বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রি করে আসছিল।
নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১ কোম্পানির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নঈম উল হক জানান, জব্দকৃত মালামালসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে