
মোঃ মোক্তার হোসাইন সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাবিকৃত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার প্রার্থিতা অবৈধ ও বিদ্রোহী বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা শাহজাহান শিবলী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা শাহজাহান শিবলী বলেন, ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া পরিকল্পিতভাবে নিজেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবি করে সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করছেন। এতে ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা ও অনৈতিক রাজনৈতিক আচরণ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
তিনি জানান, ড. ইকবাল হোসেন প্রথমে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কথা বলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং পরে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারার অজুহাত দেন। এমনকি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। অথচ বর্তমানে আবার জামায়াতে ইসলামী পরিচয় ব্যবহার করে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।
শাহজাহান শিবলী আরও বলেন, “১১ দলীয় জোট আমাকে লিখিতভাবে মনোনয়ন দিয়েছে, যার বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু ড. ইকবাল হোসেনের কাছে কোনো লিখিত মনোনয়নপত্র নেই। তিনি কোনো অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং আমাদের সমর্থকদের ব্ল্যাকমেইল করছেন।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একাধিকবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েও ভিন্ন পরিচয়ে পুনরায় নির্বাচনী মাঠে নামা দ্বিচারিতার শামিল এবং এর মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
চিটাগাংরোড এলাকায় অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্তৃক ড. ইকবাল হোসেনকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি জামায়াতের একতরফা সিদ্ধান্ত, যার সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের কোনো সম্পর্ক নেই।
শেষে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ১১ দলীয় জোটের একমাত্র বৈধ ও মনোনীত প্রার্থী আমি। আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে রিকশা প্রতীককে বিজয়ী করতে কাজ করি।”
অন্যদিকে এ বিষয়ে ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি প্রথমে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীরের যৌথ সিদ্ধান্তে তাকে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সে সিদ্ধান্তের আলোকে তিনি বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে দাবি করেন।