
মোঃ মোক্তার হোসাইন সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়া গ্রাম থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম ফারহানা (২৬)। তিনি মেঘনা উপজেলার নলচর গ্রামের কালাচানের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফারহানা স্বামী সাগর মিয়ার সঙ্গে বৈদ্যের বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সাগর মিয়া একটি কাপড়ের দোকানে কর্মরত।
অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর পরকীয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন রাতে দম্পতির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, যা পরবর্তীতে তীব্র মনোমালিন্যে রূপ নেয়। পরদিন সকালে সাগর মিয়া কর্মস্থলে চলে গেলে ফারহানা ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন।
কিছু সময় পর ঘরের ভেতর থেকে শিশুদের কান্নার শব্দ শুনে পাশের ভাড়াটিয়ারা সন্দেহ করেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে ফারহানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহ নামিয়ে ফেলা হয়, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় ফারহানার বাবা সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, সাগর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে টাকার জন্য ফারহানার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। ঈদের কয়েকদিন আগেও তাকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তারা। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, সাগর মিয়া পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন।
ঘটনার পর ফারহানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সাগর মিয়া নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং অভিযুক্ত স্বামী সাগর ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।